জাপার তালিকা থেকে সিইসি নিয়োগে 'খুশি' এরশাদ
নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য নাম প্রস্তাব করে সার্চ কমিটির কাছে জাতীয় পার্টির (জাপা) দেওয়া তালিকা থেকে নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নিয়োগ দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দলটির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাপার যৌথসভায় তিনি বলেন, 'সংবাদপত্রে খবর এসেছে নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা জাতীয় পার্টির প্রস্তাবনা থেকে এসেছেন। খুশি হয়েছি, আমাদের নামের প্রস্তাবনা থেকে সিইসি হয়েছে। তার কাছে আমাদের একমাত্র চাওয়া, সুষ্ঠু নির্বাচন।'
এ সময় গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন এরশাদ। আওয়ামী লীগের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া এ আসনে জাপার প্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার শামীম পাটোয়ারির নাম ঘোষণা করেন তিনি।
নবনিযুক্ত সিইসি ও ইসিকে স্বাগত জানালেও এরশাদ হুঁশিয়ার করে বলেন, 'গাইবান্ধার উপনির্বাচন, নবগঠিত ইসির প্রথম নির্বাচন। এ নির্বাচনে যদি ইসি নিরপেক্ষতার পরিচয় দিতে না পারে, তাহলে জাতি তাদের ক্ষমা করবে না।'
এরশাদ আক্ষেপ করে বলেন, 'কোনো নির্বাচন কমিশনই আমার প্রতি সুবিচার করেনি। একানব্বই ও ছিয়ানব্বই সালে জেলে থেকে নির্বাচন করেছি। ২০০১ সালে আমাকে নির্বাচন করতে দেওয়া হয়নি।'
বিএনপিবিহীন গত সংসদ নির্বাচনে তিন দফা সিদ্ধান্ত বদল করে জাপা। প্রথমে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন এরশাদ। এক সপ্তাহের মধ্যে তা বদল করে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। একমাস পর আবারও সিদ্ধান্ত বদলে বর্জনের ঘোষণা দেন। পরে দলটির একাংশ রওশন এরশাদের নেতৃত্বে ভোটে অংশ নিয়ে বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ বলেন, 'আগামী নির্বাচনে আমাদের কোনো রকম ভুল করা চলবে না। সিদ্ধান্ত নিয়ে তা পাল্টানো যাবে না।'
দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'চারটি নির্বাচন করেছি। দলের চেয়ারম্যানকে জেল থেকে মুক্ত করতে জীবনের ঝুকি নিয়ে তোমাদের সঙ্গে কাজ করেছি। কোনো অবস্থাতেই আবেগতাড়িত হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।'
জাপার মহাচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের সভাপতিত্বে সভায় দলের কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলার নেতারা অংশ নেন। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দলের কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইদুর রহমান টেপা, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, এসএম ফয়সল চিশতি প্রমুখ।
